সৃজনশীলতা আর ভালবাসার গাঁথুনি দিয়েই তৈরি করা যায় আপনার ছোট্ট আবাসস্থল অথবা প্রতিদিনের কর্ম চঞ্চল কর্ম স্থল স্বপ্নিল আর বর্ণময়। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় আমাদের চারপাশ কোনও না কোনও স্থানে অল্প হলেও কিছু জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে যা কোনও কাজেই ব্যবহৃত হয়না, বরং শুধু শুধু জায়গাটা পরে থাকে। আবার অনেক জায়গা খুবই সামান্য কিছু আনুষঙ্গিক দিয়ে জুড়ে থাকে। কিন্তু গাঠনিক আর কার্যকরী দিক চিন্তা করে এই অব্যবহৃত স্থানটিকেই বানিয়ে নিতে পারি বহুমাত্রিক কাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আর এখানেই নৈপুণ্য ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের। অনেকেই কিন্তু ভাবেন বাসা বা অফিস যেমন আছে, তার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার নামই হয়তো ইন্টেরিয়র ডিজাইন। বাস্তবিক অর্থ কিন্তু তা নয়, ইন্টেরিয়র ডিজাইন হল একটি বিল্ডিংয়ের অভ্যন্তরকে উন্নত করার শিল্প এবং বিজ্ঞান যার মাধ্যমে নান্দনিক পরিবেশ অর্জিত হয়। একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হলেন এমন একজন যিনি পরিকল্পনা করেন, গবেষণা করেন, সমন্বয় করেন এবং বাস্তবায়ন করেন। প্রতিটি স্থানকে কাজে লাগিয়ে গৃহসজ্জা সামগ্রীর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়ি, অফিস বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে আরামদায়ক ও দৃষ্টি নন্দন ভাবে উপস্থাপন করাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রধান লক্ষ্য।
চলুন দেখে নেই ইন্টেরিয়র ডিজাইনের গুরুত্ব এই সমসাময়িক নাগরিক জীবনে;
ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের কাজ জীবনের মান উন্নত করা। একজন ভাল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার একটি জায়গার পছন্দসই নান্দনিকতা তৈরি করবে, মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখবে এবং সেইসাথে উত্পাদনশীলতাকে প্রভাবিত করবে৷ যারা মন ও মননশীলতায় শিল্প ধারণ করেন তারা কম খরচে, কম সময়ে প্রফেশনাল ইন্টেরিয়র ডিজাইন ফার্ম এর সাথে যোগাযোগ করে নিজের বাসা বা অফিস সাজিয়ে নিতে পারেন একদম মনের মতো৷
ইন্টেরিয়র ডিজাইন আপনার বাসস্থান অথবা কাজের জায়গাটিকে মৌলিক স্তর থেকে উন্নত করে কারন এর মাধ্যমে স্থানটির বেবহৃত উদ্দেশ্য আরও দক্ষ ভাবে কাজে লাগানো যায়। একটি শয়নকক্ষ এর প্রশান্তি কিংবা একটি অফিসে কক্ষের উৎপাদনশীলতা বরধিত করন একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আওতাভুক্ত।
রঙের মনবিজ্ঞান একটি আকর্ষণীয় বিষয়। বুদ্ধিদীপ্ত ডিজাইনাররা রঙের শক্তি বোঝেন। তারা মানব মস্তিষ্কের উপর রঙের সুক্ষ্ম প্রভাবের যথাযথ প্রয়োগ করতে পারেন। উদাহরণসরুপ, একটি ফাস্ট ফুড চেইনে হলুদ, কমলা এবং লাল এর মত হাল্কা রঙ ব্যবহার করা হয় কারন এই রঙ গুলি খুদা উদ্দিপিত করে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে meditation studio তে দেখা যায় হাল্কা সবুজ এবং আসমানীর মত শান্ত রঙের ব্যবহার। এভাবেই৷ contemporary coastal ইন্টেরিয়র ডিজাইন এক ধরনের থেরাপির ফর্ম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
অর্থ, সময় এবং রুচির যথাযথ সমন্বয় করার একমাত্র ভরসাস্থল হচ্ছে একটি যুগপযুগি ইন্টেরিয়র ডিজাইন প্রতিষ্ঠান। কম সময় এবং গ্রাহকের মুল্যবান অর্থ এর সুব্যবহার করে রুচি এবং মননের প্রকাশ একমাত্র পেশাদার এর পক্ষেই সুনিশ্চিত করা সম্ভব। অনেকেই ভাবতে পারেন internet থেকে ছবি এবং কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে অনায়াসে কয়েকটি ক্যাবিনেট বানিয়ে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু ধারণাটি তখনই ভুল প্রমাণিত হয় যখন গ্রাহক দেখেন প্রচুর অর্থ, লোকবল এবং সময় দেয়ার পরও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না, স্থায়িত্ত আরও দূরের ব্যাপার। কারন ইন্টেরিয়র ডিজাইন একটি সতন্ত্র পেশা ও শিল্প, যার জন্য বহুদিনের শিক্ষা, শ্রম, কৌশলগত৷ architectural visualisation ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।
সহজে বলতে গেলে, নিজের রুচির প্রকাশ ও প্রতিদিনের জীবন সহজ করতে, একটি বাসার অন্দরমহল ও বাইরের প্রাংগন, অফিস-আদালত চত্ত্বর, বাচ্চাদের indoor পার্ক ও ক্লাসরুম, বন্ধুদের হৈ-হল্লায় মুখরিত কফি-প্লেস, বানিজ্যিক showroom, এমনকি হাসপাতালের indoor-outdoor প্রত্যেকটা জায়গায় এখন interior-exterior ডিজাইনের বহুমুখী ব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে আজকের এই নতুন ধারার জীবনে-যাত্রায়।